ইউটিউব থেকে ইনকাম করার কার্যকরী উপায় বিস্তারিত জেনে নিন
ডিজিটাল প্রযুক্তির একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব। যেখানে বিশ্বব্যাপী ২০০ কোটির বেশি মানুষ নিয়মিত ইউটিউবে ভিডিও দেখেন ।প্রত্যেক মিনিটে এই প্ল্যাটফর্মে পাঁচশো ঘন্টা ভিডিও স্ট্রিম হয়। ইউটিউব এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটা অনেকেরই জানা। আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে ইউটিউব ।
জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্লগাররা মাসে কয়েক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত রোজগার করে থাকেন ।বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে অনেক লোক ও অনেক ছেলেমেয়েরা। ঘরে বসেই ইনকাম করতে পারা যায় লাখ লাখ টাকা। তাহলে ইউটিউব থেকে আয় করার সেরা কিছু উপায় আমরা বিস্তারিত জেনে নেব এই আর্টিকেলে।
পেজ সূচিপত্রঃ ইউটিউব থেকে ইনকাম করার কার্যকরী উপায়
- ইউটিউব থেকে ইনকাম করার কার্যকরী উপায়
- বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার উপায়
- বিভিন্ন ব্রান্ড বা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি করে
- চ্যানেল মেম্বারশিপ এর মাধ্যমে আয়
- অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক এর মাধ্যমে ইনকাম
- পণ্য বিক্রয় করে আয় করা
- ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে আয়
- চ্যানেলে বিজ্ঞাপন গ্রহণ করে আয়
- চ্যানেল মনিটাইজেশন করে ইনকাম
- ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম
- ডোনেশনের মাধ্যমে আয়
- এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়
- ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের শর্তাবলী
- ইউটিউব ভিডিও করতে আপনার কি কি প্রয়োজন হবে
- ইউটিউব থেকে আয় এবং তার উপর ট্যাক্স
- আমাদের শেষ কথাঃ ইউটিউব থেকে ইনকাম করার কার্যকরী উপায়
ইউটিউব থেকে ইনকাম করার কার্যকরী উপায়
বিভিন্ন ব্রান্ড বা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি করে তাদের পণ্য বা পরিষেবা প্রচার করা হয়। এই প্রচারের মাধ্যমে আয় করা যায়। আপনার অর্থ উপার্জন হয় এবং কোম্পানিরও লাভ হয়ে যায়। এসব কোম্পানি আপনাকে এত পরিমানের টাকা দিবে যাতে আপনি এমন ভাবে ভিডিও তৈরি করে দিবেন এবং সেটা যাতে মানুষের চোখে পড়ে। বিষয়টা অনেকটা এমন যে আপনার একটি টিভি চ্যানেল আছে। সেখানে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য কেউ আপনাকে অর্থায়ন করছে।তবে এভাবে আয় করার জন্য আপনার চ্যানেলের ভিডিওটি তাহলে কেবলমাত্র কোন কোম্পানির নিজেদের প্রচার প্রচারণার জন্য। এভাবে আয় করা খুব সহজ কিছু বিষয়টি কিন্তু তা নয়।
আরও পড়ুনঃ গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায় জেনে নিন।
ইউটিউবে সফল হতে হলে ধৈর্য এবং ধারাবাহিকতা খুবই জরুরী।যখন ভিডিওর ভিউ বাড়তে শুরু করে ,মানুষ কমেন্ট করতে থাকে আর তখনই একটা আত্মবিশ্বাস আসে ।ইউটিউবে আয় করার জন্য শুধু ভিউ বাড়ালেই হয় না কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয় ভিডিওর টপিক ঠিক রাখা, ভালো থাম্বেল ব্যবহার করা আর এমন ভাবে কথা বলতে হবে যাতে দর্শক শেষ পর্যন্ত ভিডিওটা দেখে অর্থাৎ ভিডিওর হুক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা করা। কোন একটি ইউটিউব চ্যানেলে যদি ১০০০ সাবস্ক্রাইবার হয় তাহলে সে চ্যানেলটি মনিটাইজ করা যায়। এরপর আপনার ভিডিওর ভিজিটর এবং কত ঘন্টা ভিউ হয়েছে সেটার উপর ভিত্তি করে আপনাকে টাকা প্রদান করা হয় ।আপনার ভিডিও যত মানসম্মত হবে এবং দর্শকেরা উপভোগ করবে ততই আপনার চ্যানেল গ্রো আপ করবে ।তাই আপনি চাইলে ইউটিউব এর মাধ্যমে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার উপায়
ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা একটি প্রাথমিক উপায় ।তবে প্রত্যেকটি বিজ্ঞাপন থেকে মূলত কি পরিমান আয় হয় এ ব্যাপারটি গুগল নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে ।ইউটিউবাররা জানতেও পারেনা তারা যে বিজ্ঞাপন থেকে কি পরিমান আয় করছে। গুগলে, ইউটিউব থেকে কি পরিমাণ আয় করছে তার কোন কিছুই উল্লেখ করা নেই। তবে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায় যে প্রতি এক হাজার ভিউ থেকে প্রায় তিন ডলার থেকে দশ ডলার পর্যন্ত আয় হয়ে থাকে ।বেশিরভাগ ইউটিউবার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে আয় করে থাকে ।ইউটিউবে আপনার যদি কোন ভিডিও একবার জনপ্রিয় হয় হয়ে যায় তাহলে এই ভিডিও যতদিন আপনার চ্যানেলে থাকবে ততদিন ভিউ হতে থাকবে। সাধারণত বেশিরভাগ ইউটিউবার প্রথম থেকে ইউটিউবে এভাবেই আয় করে থাকে ।এজন্য এটিকে বলা হয় ইউটিউব থেকে আয় করার একটি প্রাথমিক উপায়। ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দেখাতে হয়। কিছু করতে হবে না শুধু বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে । তবে আপনি কিন্তু চ্যানেল তৈরি করে ভিডিও আপলোড করার সাথে সাথে আয় করতে পারছেন না ।তাই এটাকে সহজ উপায় বলা যায় যত সহজ বলে মনে হচ্ছে বিষয়টা আসলে কিন্তু ততটা সহজ নয় ।কেননা এই আয়ের জন্য আপনার চ্যানেলটিকে একটি যোগ্যতার পরীক্ষায় পাশ করতে হবে ।তার জন্য আপনাকে বিভিন্ন নিয়ম পালন করতে হবে ।আর সেটি হলো বিগত এক বছরের মধ্যে আপনার ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। আপনার চ্যানেলে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার হতে হবে। তাই এটা ব্যাপারটা সহজ উপায় মনে হলেও অতটা সহজ নয়।
বিভিন্ন ব্রান্ড বা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি
বিভিন্ন ব্রান্ড বা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি করে তাদের পণ্য বা পরিষেবা প্রচার করা হয় ।এই প্রচারের মাধ্যমে আয় করা যায়। আপনার অর্থ উপার্জন হয় এবং কোম্পানিরও লাভ হয়ে যায় ।এসব কোম্পানি আপনাকে এত পরিমানের টাকা দিবে যাতে আপনি এমন ভাবে ভিডিও তৈরি করে দিবেন ।এবং মানুষের সেটা যাতে মানুষের চোখে পড়ে। বিষয়টা অনেকটা এমন যে, আপনার একটি টিভি চ্যানেল আছে সেখানে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য কেউ আপনাকে অর্থায়ন করছে ।তবে এভাবে আয় করার জন্য আপনার চ্যানেলের ভিডিওটি তাহলে কেবলমাত্র কোন কোম্পানির নিজেদের প্রচার প্রচারণার জন্য। এভাবে আয় করা খুব সহজ কিছু বিষয়টি কিন্তু তা নয়।
চ্যানেল মেম্বারশিপ এর মাধ্যমে আয়
চ্যানেল মেম্বারশিপ এর মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে মাসিক ফ্রি নিয়ে বিভিন্ন
সুবিধা দেওয়া হয় ।যেমন বিশেষ ইমোজি, লাইভ চ্যাট এবং এক্সক্লুসিভ ভিডিও ইত্যাদি।
এ সকল মেম্বারশিপের কারণে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়।
অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক এর মাধ্যমে ইনকাম
বিজ্ঞাপন থেকে আয় আপনি যে পরিমাণ চাইবেন সব সময় তেমন পরিমাণ হয় না। তাই
ইউটিউবাররা আরো ক্রিয়েটিভ উপায়ে আয় করার উপায় বের করেছেন ।তা হচ্ছে এফিলিয়েট
লিংক এর মাধ্যমে ইনকাম ।এজন্য কোন কোম্পানির সাথে আপনাকে চুক্তিতে যেতে হবে .আর
তাদের পণ্যের লিংক আপনার ভিডিও ডেসক্রিপশনে দিয়ে রাখতে হবে এবং ভিডিওর মধ্যে এই
পণ্যটির কথা আপনাকে বলে দিতে হবে ।তখন এই লিংকে যেই ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করবেন
।তার থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আপনি কমিশন হিসেবে পেয়ে যাবেন। এতে
কোম্পানির লাভের সাথে আপনার লাভ হবে। যার মাধ্যমে তাদের কোম্পানির পণ্য বিক্রয়ের
সাথে সাথে তাদের কোম্পানির মার্কেটিং হয়ে যাচ্ছে। এতে কোম্পানি বেশ লাভবান
হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, যেহেতু আপনি
এফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন অর্থাৎ পরোক্ষভাবে অন্য কোন কোম্পানির পণ্য প্রচার
করছেন .সেহেতু । আপনাকে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে ।আপনার ভিডিওটি শুধু দেখলেই ভালো
হবে না সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে মৌসন গ্রাফিক্স ও যথাযথ এডিটিং থাকা প্রয়োজন
।নতুবা ভিউয়ার্সদের কাছে আপনার কন্টেনটি খুব একটা গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে
নাও হতে পারে।
পণ্য বিক্রয় করে আয় করা
নিজেদের পণ্য বিক্রয় করে আয় করার একটি সহজ উপায় হল ইউটিউব।যেমন, ইউটিউবারদের অনেক বেশি ফ্যান থাকে। তাদের জন্য এটি সহজ হয়ে থাকে। তখন সে চ্যানেলের লোগো দিয়ে টিশার্ট, চাবির রিং , ব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করে সেটা চ্যানেলের ফ্যানদের কাছে বিক্রি করা যেতে পারে। এবং সেটি বিভিন্ন দেশেও অনেক বেশি প্রচার হতে পারে ।এটি ইউটিউবারদের জন্য অন্যতম আয়ের উৎস।
ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করে আয়
কনটেন্ট তৈরি করে আয় সবার আগে বেছে নিতে হবে। কোন বিষয়ে আপনি কাজ করতে চান ।আপনার পছন্দ করা কন্টেন্ট আপনার নিজের কাছে কতটা পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন. এরপর সেই নির্দিষ্ট বিষয়টির উপর তৈরি করুন ভিডিও। আপনার কনটেন্টটি যদি একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর হয় এবং খুব ভালো হয় তাহলে দর্শক আপনার ভিডিওটি দেখবে।ইউটিউবে সফল হতে হলে ধৈর্য এবং ধারাবাহিকতা খুবই জরুরী।যখন ভিডিওর ভিউ বাড়তে শুরু করে ,মানুষ কমেন্ট করতে থাকে আর তখনই একটা আত্মবিশ্বাস আসে ।ইউটিউবে আয় করার জন্য শুধু ভিউ বাড়ালেই হয় না কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয় ভিডিওর টপিক ঠিক রাখা, ভালো থাম্বেল ব্যবহার করা আর এমন ভাবে কথা বলতে হবে যাতে দর্শক শেষ পর্যন্ত ভিডিওটা দেখে অর্থাৎ ভিডিওর হুক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা করা। কোন একটি ইউটিউব চ্যানেলে যদি ১০০০ সাবস্ক্রাইবার হয় তাহলে সে চ্যানেলটি মনিটাইজ করা যায়। এরপর আপনার ভিডিওর ভিজিটর এবং কত ঘন্টা ভিউ হয়েছে সেটার উপর ভিত্তি করে আপনাকে টাকা প্রদান করা হয় ।আপনার ভিডিও যত মানসম্মত হবে এবং দর্শকেরা উপভোগ করবে ততই আপনার চ্যানেল গ্রো আপ করবে ।তাই আপনি চাইলে ইউটিউব এর মাধ্যমে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
চ্যানেলে বিজ্ঞাপন গ্রহণ করে আয়
ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার জন্য সবার প্রথমে আপনাকে চ্যানেল এক বছরের মধ্যে এক
হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আপনি টাকা না পেলেও আপনার যত বেশি সাবস্ক্রাইবার
হবে তত আপনার আয় এর পরিমাণ বাড়বে ।আপনার চ্যানেলে যত বেশি সাবস্ক্রাইবার
থাকবে, তত বড় কোম্পানি আপনার চ্যানেলের ব্রান্ড প্রমোশনের আগ্রহ দেখাবে, ইনকাম
করতে পারবেন।
চ্যানেল মনিটাইজেশন করে ইনকাম
আপনার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন করে বছরে এক বছরের মধ্যে বা ৩৬৫ দিনের মধ্যে এক
হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম হলে আপনার চ্যানেলটি মনিটাইজেশনের
জন্য অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে। তবে মনিটাইজ হয়ে গেলে আপনার ভিডিওতে
বিজ্ঞাপন আসবে। সেগুলোতে কেউ ক্লিক করে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখলে তবে তার রোজগার
করতে পারবেন। শুরুর দিকে বেশি হয় না তাই ধৈর্য ধরে চ্যানেল পরিচালনা করতে
হবে।
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম
চ্যানেলটি মনিটাইজ হয়ে গেলে ভিডিওতে বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য ইউটিউব পার্টনার
প্রোগ্রামে যোগ দিন। প্রত্যেকটি ভিডিও থেকে আসা টাকার কিছু অংশ কন্টেন্ট
ক্রিয়েটরদের ইউটিউব স্টুডিও থেকে মনিটাইজেশন বিভাগে গিয়ে চ্যানেলে বিজ্ঞাপন
দেখানো সিলেক্ট করতে পারবেন। এখানে ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে আপনার ইনকাম দেখে নিতে
পারবেন। প্রিমিয়াম এ প্ল্যাটফর্ম থেকে রোজগার শুরু করলে আপনি ইউটিউব প্রিমিয়ামে
সাইন আপ করতে পারবেন আপনার সাবস্ক্রাইবাররা চাইলে অতিরিক্ত খরচ করে বিজ্ঞাপন
ছাড়াই আপনার চ্যানেলের ভিডিও দেখতে পারবে। সাবস্ক্রাইবারদের থেকে রোজগারের
দ্বিতীয় পথ হিসেবে কাজ করবে এই ইউটিউব প্রিমিয়াম।
ডোনেশনের মাধ্যমে আয়
ডোনেশনের মাধ্যমে আয় করা খুব সহজ। মনে করেন আপনি একটা ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন। যেমন কোন চারিটি বা সাহায্য প্রকল্প ।মানুষ যদি আপনার কাজটা পছন্দ করে তারা স্বেচ্ছায় টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারে। এই টাকা দিয়ে আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। এটা ইউটিউব থেকে আয় করার খুব সাধারন একট উপায়।
এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়
ইউটিউব হলো গুগল দ্বারা পরিচালিত একটি সার্ভিস। ইউটিউব এ ভিডিও দেখার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন লোক আছে ।ইউটিউবে ভিডিও দেখতে আসা অডিয়েন্স কে নিয়ে গুগল বিজনেস করে। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের সার্ভিস বা প্রোডাক্ট প্রমোট করার জন্য গুগলকে টাকা দেয়। এবং সে সকল কোম্পানি এডস .ইউটিউব ভিডিওতে দেখায় ।প্রমোট করার জন্য গুগলকে টাকা দেয় এবং সেই সকল কোম্পানি এড ইউটিউব ভিডিওতে দেখায় । । এড প্রমোট করার জন্য কোম্পানির কাছ থেকে ইউটিউব যে টাকা নেয় তার ৪৫ পার্সেন্ট নিজের কাছে রাখে। আর বাকি টাকা সে সকল চ্যানেলগুলোকে দেয়। যে চ্যানেল অ্যাডস দেখিয়েছিল ইউটিউব থেকে ইনকামের সবচেয়ে সহজ প্রধান পদ্ধতি হলো গুগল এডসেন্স। আপনার ইউটিউব চ্যানেল যখন এক হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচটাইম কমপ্লিট হবে মনিটাইজেশনের জন্য এপ্লাই করবেন। আপনার ভিডিওতে অ্যাডস দেখিয়ে গুগল এডসেন্স থেকে মাসিক পেমেন্ট নিতে পারবেন।
ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের শর্তাবলী
ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনাকে ইউটিউবে কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। আপনাকে ইউটিউব মনিটাইজ পলিসি গ্রহণ করতে হবে। এর সাথে আপনার চ্যানেলকে কিছু ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে হবে। সেগুলি হল-
- আপনার ইউটিউব চ্যানেলে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।
- ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম সম্পন্ন হতে হবে ।
- এ দুটি শর্ত এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
- ইউটিউব শর্টসে ১০ লাখ ভিউ থাকা প্রয়োজন।
- আপনার চ্যানেলে যে কোন ধরনের কপিরাইট বা কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রাইক যেন না থাকে।
ইউটিউব ভিডিও করতে আপনার কি কি প্রয়োজন হবে
- ক্যামেরাঃ ভিডিও করার জন্য অবশ্যই একটি ক্যামেরা থাকতে হবে। আপনি চাইলে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করেও ভিডিও তৈরি করতে পারেন।
- মাইকঃ ভিডিওতে ভালো সাউন্ড থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।এক্ষেত্রে আপনার একটি মাইক লাগবে।
- ভিডিওতে ভালো সাউন্ড থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে আপনার একটি মাইক লাগবে
- আলোঃ একটি ভিডিওতে আলো অনেক প্রভাব ফেলে। আপনি যদি আকর্ষণীয় ভিডিও বানাতে চান তাহলে এর জন্য একটি ভালো লাইট কিনতে হবে ।
- কম্পিউটারঃ ভিডিও এডিট করতে আপনার একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ লাগবে।
- ভিডিও এডিট সফটওয়্যারঃ ভিডিও এডিট করার জন্য ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর প্রয়োজন হবে। ইন্টারনেটে অনেক ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার পাওয়া যায়।
- ইন্টারনেট কানেকশনঃ ভিডিও আপলোড করতে ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন হবে। তাই ইউটিউবে ভিডিওর জন্য ভাল ইন্টারনেট কানেকশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউটিউব থেকে আয় এবং তার উপর ট্যাক্স
ইউটিউব থেকে আয় ব্যবসা থেকে পাওয়া যায়। আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয় যদি ইউটিউব থেকে আপনার মোট আয় ১ কোটি টাকার বেশি হয। তাহলে ইউটিউব কে আয়কর আইনের ধারা 44ABঅনুযায়ী এর অধীনে তার একাউন্ট অডিট করতে হয়। এই কাজটি একজন রেজিস্টার্ড অ্যাকাউন্ট করে থাকে।
আমাদের শেষ কথাঃ ইউটিউব থেকে ইনকাম করার কার্যকরী উপায়
ইউটিউব এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনার কনটেন্ট যদি ভাল হয় সফলতা আসবেই ।এই চ্যানেল থেকে ইনকাম আসবেই ।একদিন না একদিন ।তবে তার জন্য কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে কারণ এর অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে যেখান থেকে মূলত এগুলো আসে। এজন্য সেগুলোকে বিস্তারিত জানতে হবে। ইউটিউব থেকে বিভিন্ন উপায়ে আয় করার উপায়, আয় করার বিভিন্ন শর্ত এবং একটি ইউটিউব চ্যানেল চালাতে কি কি প্রয়োজন সবই বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের আরো ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করবে ।আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন ।সবশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানে শেষ করছি ,আল্লাহ হাফেজ ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url